মজুদ কমাতে খুদযুক্ত চাল রফতানির অনুমতি ভারতের

ভারতে ফেব্রুয়ারির শুরুতে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় চালের মজুদ প্রায় নয়গুণ বেড়েছে।

ভারতে ফেব্রুয়ারির শুরুতে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় চালের মজুদ প্রায় নয়গুণ বেড়েছে। মজুদ কমাতে এবার দেশটি শতভাগ খুদযুক্ত চাল রফতানির অনুমতি দিয়েছে। শুক্রবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশটির সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, শতভাগ খুদযুক্ত চাল রফতানির ফলে বিশ্বের বৃহত্তম চাল রফতানিকারক দেশ ভারতের অতিরিক্ত মজুদ কমবে। পাশাপাশি এটি আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কম দামে চাল সরবরাহের সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া এশিয়ার পশুখাদ্য ও ইথানল উৎপাদনকারীরাও এ চাল ব্যবহার করতে পারবে।

ভারতে ২০২২ সালে কম বৃষ্টিপাতের কারণে উৎপাদন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ফলে সে বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটির সরকার শতভাগ খুদযুক্ত চাল রফতানি নিষিদ্ধ করে। ২০২৩ সালে অন্যান্য চাল রফতানির ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে রেকর্ড ফসল উৎপাদনের ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় শতভাগ খুদযুক্ত ছাড়া অন্যান্য চাল রফতানির ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়।

রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আরিইএ) সভাপতি বিভি কৃষ্ণ রাও বলেন, ‘বর্তমানে খুদযুক্ত চাল রফতানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। আমরা ২০২৫ সালে এ গ্রেডের প্রায় ২০ লাখ টন চাল রফতানি করা হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছি।’

ভারত ২০২২ সালে ৩৯ লাখ টন খুদযুক্ত চাল রফতানি করেছিল। এ সময় পশুখাদ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি পণ্যটি আমদানি করেছিল চীন। তবে সেনেগাল ও জিবুতির মতো আফ্রিকার দেশগুলো মানবখাদ্য হিসেবে আমদানি করেছিল।

উল্লেখ্য, খুদযুক্ত চাল হলো মিলিং প্রক্রিয়ার একটি উপজাত। এটি তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় আফ্রিকার দেশগুলোর কাছে জনপ্রিয়।

ভারতে বর্তমানে এ ধরনের চাল টনপ্রতি ৩৩০ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে। সত্যম বালাজি কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক হিমাংশু আগরওয়াল জানান, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও পাকিস্তানে তা বেচাকেনা হচ্ছে প্রায় টনে ৩০০ ডলারে।

তবে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোয় মজুদ সীমিত। তাদের মজুদ শেষ হলে ক্রেতারা ভারতের দিকে ঝুঁকবে। তাই আগামী মাসগুলোয় রফতানিও ঊর্ধ্বমুখী হবে।

ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার (এফসিআই) ডাটা অনুযায়ী, দেশটির সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগারে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাকা ধানসহ চালের মোট মজুদ ছিল ৬ কোটি ৭৬ লাখ টন। যেখানে সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ৭৬ লাখ টন।

আরও